গভর্ন্যান্সের ব্যর্থতা ও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবে তিন লাখ কোটি টাকার মতো দেশ থেকে চলে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ব্যক্তি ও সরকারি নির্দেশে ঋণ দেওয়ার ফলে ব্যাংকের গভর্ন্যান্স সিস্টেম নষ্ট হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোকবক্তৃতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গভর্ন্যান্স ফেইলর। সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবহেলা রয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে ব্যাংকের দুরবস্থার কারণ হলো- ব্যাংকগুলোর মালিকানা ব্যক্তিদের হাতে নিয়ন্ত্রণে ছিল। যেমন- ইসলামি ৫টি ব্যাংক এক করা হলো। সবগুলো ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যাংকগুলোতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স না থাকায় তিন লাখ কোটি টাকার মতো দেশ থেকে চলে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে চারটি খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তবে বাংলাদেশে এর অবস্থান প্রথম। ফলে বাংলাদেশে অন্যান্য আর্থিক খাত ক্ষতির অবস্থানে রয়েছে। এখন আমাদের ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে অন্য খাতগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। ব্যাংকের সংখ্যা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, দেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট হতো, কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক রয়েছে ৬৪টি। অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় বেড়েছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমলে ব্যয় কমবে এবং লাভজনকতা বাড়বে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের আয় বাংলাদেশের সব ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের সমান। বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত খাতকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আমাদের বর্তমান গভর্নর। অর্থের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিবিড়।সবাই জানেন অর্থই অনর্থের মূল। সেটা আমরা কিছু দিন লক্ষ করলাম। সেই অনর্থ কোথায় এসে ঠেকেছিল, শিক্ষার্থীরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেই অবস্থা থেকে আমাদের রক্ষা করেছে। ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমরা বুঝতে পারছি এই খাতটা কতটা নাজুক পর্যায়ে আছে। বিভিন্ন কলাকৌশলে এটাকে ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে উন্নয়নের ইতিবাচক ধারা এসেছে- সেটা অব্যাহত থাকবে, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। লোকবক্তৃতায় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ্ এবং সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
ব্যাংক খাত থেকে তিন লাখ কোটি টাকা পাচার-গভর্নর
- আপলোড সময় : ২২-০১-২০২৬ ১২:২৬:৪১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০১-২০২৬ ১২:২৬:৪১ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার